নিজস্ব সংবাদদাতা: ভোটে জেতার পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, রাজ্যের সকলকে তিনি বিনামূল্যেই ভ্যাকসিন প্রদানের ব্যবস্থা করবেন। সেই মতো প্রথম পর্যায়ে কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন মিলিয়ে রাজ্য সরকার ২ কোটি ডোজ প্রতিষেধকের বরাত দিয়েছে উৎপাদক সংস্থাগুলির কাছে। কিন্তু মে মাসে রাজ্যে খুব বেশি হলে ১৪ লক্ষ ২৪ হাজারের মতো ডোজই সরবরাহ করা হবে। তার মধ্যে অর্ধেক, অর্থাৎ ৭ লক্ষের কিছু বেশি ডোজ রাজ্য সরকার হাতে পাবে। ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্য সরকার ১৮-৪৪ বছর বয়সীদের বিনামূল্যে এই প্রতিষেধক দেবে। কিন্তু বাকি প্রতিষেধক যাবে রাজ্যের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে। সেখানে নিজের গাঁটের কড়ি খরচ করেই টিকা নিতে হবে।

কেন? নরেন্দ্র মোদী সরকার নিজেই সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, প্রতিটি রাজ্যে ১৮-৪৪ বছর বয়সিদের জন্য যে টিকা যাবে, তার অর্ধেক যাবে রাজ্য সরকারের কাছে। বাকি অর্ধেক যাবে বেসরকারি হাসপাতালগুলির কাছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সিরাম ইনস্টিটিউট রাজ্যকে ৩০০ টাকা দরে টিকা বেচবে, ভারত বায়োটেক বেচবে ৪০০ টাকা দরে। কিন্তু এরাই বেসরকারি হাসপাতালকে ৬০০ ও ১২০০ টাকা দরে টিকা বেচবে। বেসরকারি হাসপাতালে যখন বেশি দর মিলছে, তখন সিরাম-ভারত বায়োটেক সেখানেই টিকা জোগানে প্রাধান্য দেবে না তো?

এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্তা বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি, ১ মে-র পরে ১৮-৪৪ বছর বয়সীদের জন্য সরকারের হাতে টিকা আসার আগেই কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল ২৫ হাজার ডোজ জোগাড় করে ফেলেছে। এই প্রবণতা চলতে থাকলে, সাধারণ গরিব মানুষকে বিনামূল্যে টিকা দিতে চাইলেও রাজ্যের হাতে যথেষ্ট টিকা থাকবে না। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে বড়লোকেরা টিকা নিতে পারবেন। কিন্তু গরিব মানুষ টিকা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।” এ জন্য মোদী সরকারের নীতিকেই দায়ী করছে বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলি।

বিরোধীদের অভিযোগ, সিরাম ও ভারত বায়োটেক যাতে বেসরকারি হাসপাতালকে বেশি দামে টিকা বেচতে পারে, সেটা কেন্দ্রই নিজেদের নীতির মাধ্যমে নিশ্চিত করে দিচ্ছে। কেন্দ্রের এই নীতির ফলে, রাজ্য ২ কোটি ডোজের বরাত দিলেও তা হাতে পেতে দু’বছরের বেশি সময় লেগে যাবে। উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদী সরকার আগেই ঘোষণা করেছে, ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের কোভিডের প্রতিষেধক দেওয়ার কোনও দায় কেন্দ্র নেবে না। রাজ্য সরকার বা কোনও বেসরকারি হাসপাতাল টিকা দিতে চাইলে তা সরাসরি সিরাম ইনস্টিটিউট ও ভারত বায়োটেকের থেকে কিনে নিতে হবে। তবে সব রাজ্যে যাতে জনসংখ্যার অনুপাতে সমান ভাবে টিকা পৌঁছয়, তার জন্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে কথা বলে কোন রাজ্য কত ডোজ পাবে, তা ঠিক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here