বাংলায় শীতকালে পৌষ সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানো খুবই পুরনো রীতি। এই দিনে বাড়িতে থরে থরে সাজানো হয় রং বে রঙের ঘুড়ি-লাটাই। এ ছাদ থেকে ও ছাদ চলে ঘুড়ি ওড়ানো প্রতিযোগিতা! মকর সংক্রান্তিতে পিঠে খাওয়া ছাড়াও অন্যতম অঙ্গ হল এই ঘুড়ি উৎসব। কিন্তু শুধু যে মকর সংক্রান্তিতেই ঘুড়ি আকাশে ওড়ে তা কিন্তু না। ঘুড়ি প্রায় গোটা শীতকাল ধড়েই আকশে ভাসমান থাকে।

My India 696x497 1

পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় এদিন সকাল থেকেই আকাশ ছেয়ে যায় ঘুড়িতে। করা হয় প্রতিযোগিতার আয়োজনও। ঘুড়ি ওড়ানো বাংলায় এই উৎসবে লেগে থাকে বিশাল আনন্দ । এই উৎসব প্রকৃতপক্ষে সূর্যদেবের আরাধনাকে ঘিরে হয়।আর এই উৎসবে মানুষ ঘুড়িকে প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করে সূর্যদেবতার কাছে নিজেদের আকুতি পৌঁছে দেয়।

গুজরাতে ‘উত্তরায়ণ’ উপলক্ষে দু’দিন ছুটি থাকে। ঘুড়ি ওড়ানো হয় তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশেও। মকর সংক্রান্তি যেহেতু কৃষিকাজের উৎসব তাই এই উৎসবে প্রধান পুজো পান সূর্যদেব।কৃষিকাজের জন্য তিনি শক্তি দেন । সূর্যের কৃপাতেই গোলা ভরে ফসলে। তাই এদিন সূর্যের কাছে নিজের বার্তা পাঠাতেই আয়োজন করা হয় এই ঘুড়ি উৎসবের।তবে মকর সংক্রান্তির মূল প্রথা হল গঙ্গাস্নান, অন্নদান এবং মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ কিছু খাবার দাবার তৈরি করা। আমাদের রাজ্যে এই দিন নানা ধরনের পিঠে ও পায়েস তৈরির প্রথা রয়েছে। বাড়ির মেয়েরা এই পিঠে তৈরি করে থাকে। অন্য রাজ্যগুলির কোথাও দইচুড়া, কোথাও খিচুড়ি এবং কোথাও গুড় বা তিলের মিষ্টি তৈরি করা হয়ে থাকে।

ঘুড়ি

তাছাড়া, এই বিশেষ দিনটিতে সকলেই নিজের ঘর বাড়ি বিশেষ করে রান্নাঘর ও রন্ধন দ্রব্যাদি পরিষ্কার করেন ৷ যাতে সমস্ত রকম অপরিশুদ্ধতা দূর হয়। ওই একটি দিন আসলে নিজের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার করা হয় ৷ আসলে সুস্থতা বজায় রাখার জন্যই এই নিয়মটি পালন করা হয় বলে মনে হয়।আজকের দিনে বাংলার বহু জায়গায় অনেকেই দল বেঁধে ঘুড়ি ওড়ান। একসঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোর মজাই আলাদা। যদিও এখন ডিজিটালাইজেশনের যুগে অনেকেই আর সময় করে উঠতে পারেন না। তার উপর কম্পিউটার গেমের ফলে আর ঘুড়ির কথা মনেই পড়েনা কারুর। তবুও বহু মানুষ পুরনো ঐতিহ্য এখনও আঁকড়ে রয়েছেন ঘুড়িকে ঘিরে।এই উৎসবের দিনে ঘুড়ি ওড়ানোর পেছনে কিছু কারণ আছে।

আসলে ঘুড়ি আশা, খুশি, উল্লাস, স্বাধীনতা, শুভ কামনার প্রতীক !

সংক্রান্তির শুভক্ষণে তাই ঘুড়িই যেন খুশি ও স্বাধীনতার বার্তা বহন করে।মানুষের আশা-আকাঙ্খা, আনন্দ, সুখও যেন উর্ধ্বমুখী হয়, শুভ দিনে এই আশাতেই রঙিন ঘুড়ি আকাশে ওড়ানো হয়। ঘুড়ি ওড়ালে মন ভাল থাকে। সেইসঙ্গে মগজের ব্যায়ামও হয়। ঘুড়ি যাতে না কাটে তাই সব সময় মস্তিষ্ক কাজে লাগাতে হয়। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ মনে করে, ঘুড়ি ওড়ালে নতুন ভাবনার উদয় হতে পারে।একজন ঘুড়ি ওড়াবে। আরেকজন লাটাই ধরবে। ঘুড়ি ওড়ানোর ঐতিহ্যের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়া বাড়ানোর ধারা অব্যহত রয়েছে। মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও অটুট হয়।