বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের দিন থেকেই বিজেপি অভিযোগ করছেন নানা জায়গায় তাদের সমর্থকদের ওপর দলবেঁধে হামলা চালাচ্ছে তৃণমূল। একই অভিযোগ করেছে বামেরাও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি সরব বিজেপি। তাদের ছোট-মেজ-বড় সমস্ত স্তরের নেতারা সামাজিক মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের হিংসার ঘটনার একাধিক ছবি প্রকাশ করেছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে সেই সমস্ত ছবির সবগুলো সত্য ঘটনা নয়। দেখা গিয়েছে বাংলাদেশের পুরানো হিংসার ছবি বা এই পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে পুরনো সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ছবি বর্তমান সময়ের বলে পোস্ট করছে গেরুয়া শিবির। স্বাভাবিকভাবেই ভুয়ো খবর বা ফেক নিউজ ছড়ানোর অভিযোগে বিদ্ধ বিজেপি।

বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা নানুরে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে মিথ্যে খবর এবং ছবি সর্বত্র ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। গোটা বিষয়টিকে তুলে ধরে তারা সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি উত্তরপ্রদেশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ছবি এই রাজ্যের ঘটনা বলেও তারা চালিয়ে দিচ্ছে। জঙ্গলমহলে অনেক জায়গায় তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অথচ সেগুলিকে হিন্দু-মুসলমান সংঘর্ষের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু জঙ্গলমহলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রায় নেই বলতে গেলে। সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে মিথ্যে খবর ছড়ানোর অভিযোগে বিদ্ধ বিজেপি।

বিজেপি,
বাংলাদেশের খবর পশ্চিমবঙ্গের বলে চালানো হচ্ছে

ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বেশ কিছু ভুয়ো ছবিকে সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেছে। আসল ছবিটি কোন জায়গার এবং মিথ্যে খবরটি কি সেই দুটি পাশাপাশি রেখে প্রচার করে সাধারন মানুষের ভুল ভাঙ্গানোর চেষ্টা করছে। পুলিশ-প্রশাসনের এই প্রচেষ্টায় আস্তে আস্তে কিছুটা হলেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভুয়া খবরের মাধ্যমে অশান্তিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

এমনিতেই ভোট-পরবর্তী অশান্তির ঘটনায় রাজ্যবাসী প্রবল আতঙ্কে আছে। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত অশান্তিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিলে রীতিমতো দাঙ্গা ঘটতে পারে বাংলায়। যে কোনও অশান্তি, যেকোনো মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনভিপ্রেত। কিন্তু সাধারণ সংঘর্ষকে হিন্দু-মুসলমান এই বিভাজন করলে সেই ঘটনার রেশ অনেকদূর ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্বাভাবিকভাবেই তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সমস্ত সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ। সেই জন্যেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করার পাশাপাশি দাঙ্গা আটকানোর লক্ষ্যে কড়া পদক্ষেপ করছে পুলিশ।

সমস্ত স্তরের প্রতিটি মানুষকে ‘বাংলা খবর’ এর পক্ষ থেকে আমরা আবেদন করছি আপনারা যে কোনও খবর দেখেই সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্বাস করে নেবেন না। তার সত্যতা যাচাই করে নিয়ে তবেই সেই খবর বিশ্বাস করুন। বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির যুগে যেকোনো ছবিকে একটু আদল বদল করে আপনাদের কাছে পেশ করা হতে পারে। প্রথমেই যুক্তি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করুন এই ছবিটি কোথাকার। কোথায় ঘটেছে, কার সঙ্গে কি ঘটেছে, প্রত্যক্ষদর্শী কারা কারা আছে এগুলি বিচার করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এই দায়িত্বটুকু যদি আমরা পালন না করি তবে আগামী দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।