প্রতিটা নারীর কাছে মা হবার থেকে বড়ো খুশির আর কিছু হতে পারেনা। আর এই মা হওয়ার পরিকল্পনা করার সময় প্রায় প্রত্যেক মহিলারই চায় যাতে কোনো সমস্যার মুখোমুখি যেনো তাকে এবং তার সন্তানকে না পড়তে হয়। অনেকেই প্রেগনেন্সির প্ল্যানিং করার সময় কিছু ভুল করে বসে, যার কারণে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে বা গর্ভাবস্থায় কোনও না কোনও সমস্যা দেখা দেয়।ফলে ডেলিভারির সময়ে নানান সমস্যা হতে পারে।

একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে প্রেগনেন্ট হলে মহিলাদের অনেক সময়ই শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হয়। তাই মা এবং শিশুর সুস্বাস্থ্যের জন্য কিছু পরিকল্পনা প্রেগনেন্সির আগেই থেকেই করে নেওয়া বেশ ভাল। তাহলে আসুন আজ জেনে নিই যে গর্ভবতী হওয়ার আগে কোন কোন বিষয়ের কথা মাথায় রাখতে হবে ।

১) মা হওয়ার পরিকল্পনা করতে শুরু করলে,

সর্বপ্রথমে একজন ভালো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের ( gynochologist) সঙ্গে পরামর্শ করুন। তাহলেই কিন্তু আপনি হেলথি প্রেগনেন্সির প্ল্যান তৈরি করতে সক্ষম হবেন। গর্ভধারণের তিন মাস আগে, যা প্রি-প্রেগনেন্সি পিরিয়ড নামে পরিচিত, ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন করতে পারেন। তাতে আখেরে উপকার হবে আপনার।
08b7ba5f 8a1e 46cf 826f ac1d2a02ba0d

২) গর্ভবতী হওয়ার আগে অবশ্যই আপনার মেডিকেল হিস্ট্রি একজন ডাক্তারের আলোচনা করা উচিত ।

৩)ফাইব্রয়েড এবং এন্ডোমেট্রিওসিসের সম্ভাবনার জন্য পরীক্ষা করিয়ে নিন। সেই সঙ্গে আপনার পরিবারে যদি ডাউন সিনড্রোম, থ্যালাসেমিয়ার ইতিহাস থেকে থাকে তবে ডাক্তারকে এ সম্পর্কে বলুন।

৪) আপনার যদি মূত্রনালীতে সংক্রমণ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা থাকে, তবে পরীক্ষা করান। সমস্যা থাকলে গর্ভধারণের আগে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করান।

এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি, সিফিলিস, ইত্যাদি গর্ভাবস্থার আগে পরীক্ষা করিয়ে নিন। যাতে গর্ভাবস্থা বা প্রসবের সময় এই সংক্রমণ শিশুর মধ্যে না যায়।

কারোর যদি ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, হাঁপানি, কিডনি, হৃদরোগ, ইত্যাদি সমস্যা থাকে, তবে অবশ্যই গর্ভাবস্থার আগে সেগুলি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

যদি আপনার ওজন বেশি হয় এবং বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ২৩ বা তারও বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে ডাক্তার আপনাকে ওজন হ্রাস করতে পরামর্শ দেবেন। আর যদি আপনার ওজন কম হয় তবে আপনার BMI বাড়ানোর নিরাপদ পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। আপনার BMI ১৮.৫ এবং ২২.৯ এর মধ্যে হওয়া উচিত। তাই এই বিষয়ে মনে রাখা দরকার।

মা

ব্যাস এই উপরের বিষয়গুলি মাথায় রাখলেই আপনি উপভোগ করতে পারবেন একটা স্বাস্থ্যকর প্রেগনেন্সি ।