“কফিহাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর…”

না, নেই বলব না। প্রজন্মের পর প্রজন্ম জুড়ে কফিহাউসের আড্ডা আছে। আসলে যতদিন মানুষ আছে, হৃদয়ে রক্তের সঞ্চালন আছে, মনে প্রেম আছে, অন্তরে আবেগ আছে… আর আছে চিরন্তন প্রেমিক সত্বা… ততদিন কফিহাউসের আড্ডা আছে, থাকবে। আজ যা আমার কাছে অতীত, কারো কাছে তাই বর্তমান।
তাই কফির কাপে মন হারানো চিরন্তন, চিরন্তন কফির কাপে আড্ডার রেশ, রাজনৈতিক ঝড় আর নতুন সৃষ্টির উন্মিলন, প্রথম প্রেমের স্মৃতি বাহকও বটে।

কফি আর আমার প্রেমময়তা:-

কফি নস্টালজিয়া আমার মারাত্মক। তাই তার প্রেমে আমি বারবার পড়ি। এখনো সুযোগ পেলেই একা একাই কফিহাউসের আড্ডায় যোগ দিই… নাই বা থাকলে তুমি সামনে। হৃদয়ে তোমার স্থান চির অমলিন। এক কাপ কফি আর অন্তরে তোমার অবস্থিতি… ব্যস ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবলীলায় কেটে যায়। আর বিরহ বা প্রেম ঝরে পড়ে কলমে।

শুধু শীতের কফি? না সাথী সর্বক্ষণের…

না না, কফিকে শুধু শীতে সীমাবদ্ধ করবেন না প্লিজ! বছরের বারোটা মাস আমার ঘরে কফি থাকে স্বমহিমায়। একটু ক্লান্তি… মুক্তি দেয় কফি, অবসাদ… মুক্তির চাবিকাঠি কফি। কফিতে ক্যাফেইন থাকায় দেহের ক্লান্তি দূর হয়ে যায় সহজেই। কর্মরত ক্লান্তিময় জীবনে শরীরকে চাঙ্গা করতে এক কাপ কফির জুড়ি নেই। কাজের চাপে ক্লান্ত… এক কাপ কফিই ক্লান্তি দূর করে, দেয় স্বতঃস্ফূর্ততা।
তোমার স্মৃতিতে হারাতে মন চাইলেই সাথী কফি, হঠাৎ পাওয়ার আনন্দে কফি, হঠাৎ কান্নায় কফি, অতিথি পরায়নতায় কফি, মিলনের আনন্দে কফি… কফি সাথী সর্বক্ষণের।

কফির বৈচিত্র্য…

একঘেয়ে কফিতেও মন ওঠে না সবার। চায় বৈচিত্র্য। এক কফিকে ভিন্ন ভিন্ন আধারে পরিবেশন করার প্রক্রিয়া দেখা যায় বিভিন্ন কফি শপে। আসুন আজ আমরা একটু বৈচিত্র্যে হারাই…
একই দুধ কফি তো সকলেরই জানা, ক্যপুচিনো বা এসপ্রেসোর নামও শুনেছি কফি শপের দৌলতে। আর বিগত কয়েকমাসে লকডাউনে আর একটা নাম মনে হয় সবার জানা সেটা হলো ডালগুনা কফি… হয়তো সবাই বাড়িতে এক-আধবার ট্রাই করে ফেলেছেন।

আরো কয়েক শ্রেণির কফির সাথে আজ আমরা পরিচিত হবো।

১. এসপ্রেসো কফি (Espresso coffe):

you tube

এস্প্রেসো ইতালীয় বংশোদ্ভূত একটি কফি তৈরির পদ্ধতি, যার মধ্যে প্রায় সামান্য পরিমাণে ফুটন্ত জল থাকে। অন্যান্য পদ্ধতি দ্বারা তৈরি কফির চেয়ে এ কফি ঘন হয়।
এস্প্রেসো কফি বিভিন্ন ধরণের কফি বিন এবং রোস্ট ডিগ্রি দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে।
যারা খুব কড়া কফি পছন্দ করে, তারা এই
এস্প্রেসো সরাসরি পান করে। 
এস্প্রেসো তে প্রচুর আন্টি-অক্সিডেন্টস থাকে, যা ইমিউন-সিস্টেম উন্নত করে থাকে। পরিমিত পরিমান এই কফি Heart Disease, Obesity, Liver Disease এমনকি কিছু Cancer এর ও প্রতিরোধ করে থাকে।

২. অ্যামেরিকানো কফি (Americano coffe):

অ্যামেরিকানো কফিটি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পান করা হয়। এই কফিটি সাধারণত ব্ল্যাক কফি নামে পরিচিত ।
এস্প্রেসো কফির মধ্যে আধ কাপ গরম জল ও পরিমাণমতো চিনি মিশিয়ে করা হয়। কফিশপগুলিতে জল পরিমাণ মতো মিক্স করে। ১০ গ্রাম এস্প্রেসোতে ২০ গ্রাম জল মেশায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আমেরিকার সৈন্যরা তেষ্টা মেটানোর জন্য এই কফি খেতেন। পরবর্তী কালে তার জনপ্রিয়তা বাড়ে।

৩. ক্যপুচিনো কফি (Cappuccino coffe):

এটিও ইতালি থেকেই উদ্ভূত। বেশির ভাগ ইটালিয়ানের প্রাতরাশে এক কাপ ক্যাপুচিনো না থাকলে নাকি দিনটাই জমে না!
এস্প্রেসো কফি মধ্যে আলাদাভাবে দুধ এবং চকোলেট সিরাপ মিশিয়ে তৈরি করা হয়। মাইক্রোফোমের ঘন স্তর দিয়ে তৈরি করা হয়। দুধের পরিবর্তে হুইপড ক্রিমও ব্যবহার করা হয় এবং দারচিনি বা চকোলেট গুঁড়ো দিয়ে স্বাদ বাড়ানো হয়, এস্প্রেসো থেকে ভিন্ন স্বাদের হয়।

৪. ল্যাটে কফি (Latte coffe):

এই ধরনের কফি এস্প্রেসো কফির সাথে তিনগুণ বেশি দুধ মিশিয়ে ল্যাটে কফি তৈরি করা হয়। দুধ পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে সাদাটে ভাব চলে আসে। পাশাপাশি চিনির পরিমাণও বেশি রাখতে হয়।

ইতালিতে দুধকে ল্যাটে বলা হয়। তাই দুধের সাথে মিশ্রিত এস্প্রেসো ল্যাটে কফি।

৫. আইরিশ কফি (irish coffee):

আইরিশ কফি হ’ল একটি ককটেল যা গরম কফি। আইরিশ হুইস্কি এবং চিনি মিশ্রিত করে তৈরি এবং উপরে থাকে ক্রিম।
কফি ক্রিম দিয়ে পান করা হয়।

৬. দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্টার কফি ( South Indian filter coffee):

ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ফিল্টারে কফি গুঁড়ো
দক্ষিণ ভারতীয় ফিল্টার কফি তৈরি করা হয়।
পেরকোলেশন মেশানো সংমিশ্রণ দ্বারা প্রাপ্ত ফ্রুশড এবং সিদ্ধ দুধ মিশ্রিত করে তৈরি করা একটি কফি পানীয়।
পেপার ফিল্টারের বদলে সেখানে এমন ফিল্টার কফি মেশিন ব্যবহার করা হয়, যেখানে আছে স্টিলের দু’টি কম্পার্টমেন্ট। উপরের অংশ ছিদ্রযুক্ত। সেখানেই থাকে কফি, ঢালা হয় গরম জল। একটা সময়ের পরে তা থিতিয়ে পড়ে নীচের অংশে। তার পরে সামান্য গরম জল মেশালেই তৈরি ফিল্টার কফি।
দোকানে সহজেই কিনতে পাওয়া যায় স্টিলের পারকোলেটেড কফি ফিল্টার।
পানীয়টি সেখানে কাফি হিসাবে পরিচিত। পানীয়টিকে মাদ্রাজ ফিল্টার কফি, মাদ্রাজ কাপি, কুম্বাকনাম ডিগ্রি কফি, মাইলাপুর ফিল্টার কফি বা মাইসুর ফিল্টার কফি হিসাবেও উল্লেখ করা হয়।
ভারতের বাইরে “ফিল্টার কফি” শব্দটি ড্রিপ ব্রু কফি বোঝায় যা কফি প্রস্তুতের একটি স্বতন্ত্র রূপ।
এখানে কফি রাখা হয় একটি পেপার ফিল্টারের উপরে। তাতে ঢালা হয় গরম জল। আস্তে আস্তে কফির লিকার জমা হয় নীচের ক্যারাফে।

৭.মকা চিনো কফি (Mocha Chino Coffee):

মকা চিনো আসলে ক্যাপাচিনো বা লাতের সাথে চকলেটের মিশ্রণ। 1:1:1 রেশিও বা নিজের পছন্দ মত রেশিওতে এস্প্রেসো, দুধ এবং চকলেট মিক্স করলেই হলো ক্যাফে মকা। এক এক কফিশপ এক এক রেশিও ব্যবহার করে। আর তাই এক এক কফিশপের স্বাদ ও ভিন্ন ভিন্ন হয়।

★★এই ফ্লেভার গুলোর সাথে গরম দুধের পরিবর্তে ঠাণ্ডা দুধ এবং বরফ মিক্স করলে হয় Iced Cappuccino, Iced Latte, Iced Mocha ইত্যাদি পাওয়া যায়। কফিশফ গুলোতে সাধারণত কফির সাথে সুগার মিক্স করে দেয় না। সুগারটা নিজের পছন্দ মত মিক্স করতে হয়। একটু সামান্য সুগার বেশি বা কম হলে অনেকের কাছে খেতে ভালো লাগে না। সবচেয়ে ভালো হয় যদি চিনি ছাড়াই খাওয়া যায়।

৮. ইনস্ট্যান্ট কফি: (Instant coffee)

Nescafe, MacCoffee সহ অনেক ব্র্যান্ডের ইনস্ট্যান্টকফি পাওয়া যায়। এগুলোও সাধারণত এস্প্রেসো যেভাবে ব্রু করে, সে ভাবেই ব্রু করে। এরপর ব্রু করার পর জল শুকিয়ে গুড়ো করে প্যাকেটজাত করে। ফ্রেস ব্রু কফির স্বাদের মত টেস্টি নয়।

উৎস…

১. অ্যারাবিকা কফি

অ্যারাবিকা কফি রোবাস্তার সাথে তুলনায় ভালো,ক্যাফেইনের পরিমাণ কম। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় অ্যারাবিকা কফির দামও বেশি।

২. রোবাস্তা কফি

২. রোবাস্তা কফি
রোবাস্তা কফি গুলোতে ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি, তাই তিতো বেশি। রোবাস্তা কফির দাম তুলনা মূলক কম।

★★★

কফি রোস্ট

কফিবিচি সাধারণত গুড়ো করার পূর্বে
রোস্ট করা হয় । বেশি রোস্ট করলে কফিবীন গুলো কালও হয়। কেউ পছন্দ করে কম রোস্ট করা বা লাইট কফিবীন, কেউ পছন্দ করে মিডিয়াম, কেউ পছন্দ করে ডার্ক। এই রোস্ট করার উপর কফির ফ্লেভার নির্ভর করে। যদিও ক্যাফেইনের পরিমাণ একই থাকে।